সুন্দরবনে বনদস্যুর তাণ্ডব অব্যাহত, শেলারচর থেকে রামপালের ৫ জেলে অপহরণ - Bagerhat Times

Breaking

Breaking News

    Post Top Ad

    Post Top Ad

    সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

    সুন্দরবনে বনদস্যুর তাণ্ডব অব্যাহত, শেলারচর থেকে রামপালের ৫ জেলে অপহরণ

     

    ডেস্ক রিপোর্ট।।


    সুন্দরবনে ফের জেলেদের অপহরণ, আতঙ্কে উপকূলের মৎস্যজীবীরা

    বাগেরহাট :
    সুন্দরবনে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বনদস্যুদের তৎপরতা। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য এলাকার কালামিয়া নদী থেকে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গভীর রাতে পাঁচ জেলেকে অপহরণ করেছে একটি দস্যুদল। অপহৃত জেলেদের মুক্তির বিনিময়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় জেলে ও মহাজন সূত্রে জানা যায়, এ অপহরণের সঙ্গে কুখ্যাত বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অপহৃত জেলেরা হলেন—কচি (৪৫), হিরক (৩৫), সালাম (৪০), রবিউল (৩৫) ও মুজাহিদ (২৬)। তাঁদের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাশতলী এলাকায়।

    জেলেদের মহাজন ও শেলারচর এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী নুরুল হক শেখ জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর আটজন জেলে কালামিয়া নদীতে মাছ ধরছিলেন। এ সময় নৌকায় করে এসে দস্যুরা জেলেদের ওপর হামলা চালায়। মারধরের পর তিন জেলেকে নদীর তীরে নামিয়ে রেখে ট্রলারসহ বাকি পাঁচজনকে তুলে নিয়ে যায়। যাওয়ার আগে মুক্তিপণের দাবি জানিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে যায় দস্যুরা।

    এর আগেও চলতি মাসে একই দস্যু বাহিনীর হাতে একাধিক জেলে অপহরণের ঘটনা ঘটে। গত ১০ জানুয়ারি কটকার কালামিয়া এলাকা থেকে দুজন এবং ১৫ জানুয়ারি দুবলার আমবাড়ীয়া এলাকা থেকে আরও দুজন জেলে অপহৃত হন। তাঁদের মধ্যে দুজন মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এলেও এখনো কয়েকজন জেলে দস্যুদের জিম্মায় রয়েছেন।

    একাধিক জেলে ও মহাজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমানে সুন্দরবনের সবচেয়ে ভয়ংকর দস্যুদল হিসেবে জাহাঙ্গীর বাহিনী পরিচিত। অপহরণের পর জেলেদের শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে এবং দ্রুত টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে জেলেরা জীবিকার ঝুঁকি নিয়ে বনে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

    তাঁরা আরও বলেন, দীর্ঘ সময় সুন্দরবনে দস্যুদের তৎপরতা কম থাকলেও গত এক থেকে দেড় বছরে পরিস্থিতি আবার উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। দ্রুত কঠোর অভিযান না চালানো হলে দস্যুদের দৌরাত্ম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

    দুবলার বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় বলেন, বনদস্যুদের কারণে জেলেরা স্বাভাবিকভাবে মাছ ধরতে পারছেন না। এতে রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, পাঁচ জেলে অপহরণের বিষয়টি তারা অবগত। কোস্ট গার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    কোন মন্তব্য নেই:

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

    Post Top Ad