মোংলায় এক মঞ্চে মুখোমুখি চার প্রার্থী, জনগণের প্রশ্নে ইশতেহার উপস্থাপন - Bagerhat Times

Breaking

Breaking News

    Post Top Ad

    Post Top Ad

    সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

    মোংলায় এক মঞ্চে মুখোমুখি চার প্রার্থী, জনগণের প্রশ্নে ইশতেহার উপস্থাপন

     

    শেখ তাইজুল ইসলাম, মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি :

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাগেরহাট-৩ (মোংলা–রামপাল) সংসদীয় আসনের চার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে ‘জনগণের মুখোমুখি’ শীর্ষক এক ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশগ্রহণকারী বক্তারা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

    সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় মোংলা শ্রমিক সংঘের মাঠে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মোংলা উপজেলা কমিটির উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজন মোংলা উপজেলা কমিটির সভাপতি ফ্রান্সিস সুদান হালদার। আলোচনায় অংশ নেন বাগেরহাট-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ শেখ জিল্লুর রহমান এবং জাসদ মনোনীত তারা প্রতীকের প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং সুজনের খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রঞ্জু।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার এবং রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন অপরিহার্য। দলনিরপেক্ষ, দক্ষ ও সাহসী ব্যক্তিদের নির্বাচনী দায়িত্বে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

    অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপন করেন। পরে সাধারণ জনগণ তাদের কাছে প্রশ্ন উত্থাপন করেন এবং প্রার্থীরা সরাসরি সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, শুধু একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই যথেষ্ট নয়—দেশের জন্য প্রয়োজন একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক রূপান্তর। এজন্য আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি রাজনৈতিক নৈতিকতা ও মূল্যবোধের পরিবর্তন জরুরি।

    সুজনের খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রঞ্জু বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা—দেশে যেন আর কখনো কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। একটি পরিশুদ্ধ নির্বাচন ব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র এবং সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ গঠনের মধ্য দিয়েই সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

    অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন, যা পাঠ করে শোনানো হয়। পাশাপাশি ভোটারদের নাগরিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থী নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।

    কোন মন্তব্য নেই:

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

    Post Top Ad