কারামুক্তি আর হলো না ছাত্রলীগ নেতার, জেল গেটে পৌঁছাল স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মরদেহ - Bagerhat Times

Breaking

Breaking News

    Post Top Ad

    Post Top Ad

    শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬

    কারামুক্তি আর হলো না ছাত্রলীগ নেতার, জেল গেটে পৌঁছাল স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মরদেহ

     


    বাগেরহাট :


    কারাবন্দি অবস্থায় স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মুখ আর দেখা হলো না নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের। পারিবারিক ট্র্যাজেডির এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে যশোর কারাগারের জেল গেটে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়, শেষবারের মতো দেখানোর জন্য।

    প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীকে বিয়ে করেন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় সেহজাদ হোসেন নাজিফ নামে একটি পুত্রসন্তান। তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ায় সন্তানের জন্মের পর একবারও তাকে কোলে নেওয়ার সুযোগ পাননি সাদ্দাম।

    কারাবন্দি অবস্থায় স্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরতে না পারার কষ্টের কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষা আর পূরণ হয়নি। স্বামীকে মুক্ত করতে না পারার হতাশা ও মানসিক চাপের মধ্যেই প্রাণ হারান কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও তার শিশুসন্তান—এমনটাই ধারণা করছেন অনেকে।

    ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে রহস্য। স্থানীয় বাসিন্দারা এই মৃত্যুকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না। রিবা বেগমসহ একাধিক এলাকাবাসী জানান, হাসিখুশি একটি পরিবার মুহূর্তের মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। এটি হত্যা না আত্মহত্যা—সে বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন তাঁরা।

    নিহত কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ভাই শুভ হাওলাদার বলেন, সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে আমরা মৌখিকভাবে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। সেখান থেকে জানানো হয়, যেহেতু তিনি যশোর কারাগারে বন্দি, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসন দেখবে। সময় সংকটের কারণে শেষ পর্যন্ত পারিবারিক সিদ্ধান্তে মরদেহ জেল গেটে নেওয়া হয়।

    এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, কারাবন্দি ব্যক্তি যেহেতু যশোর জেলে রয়েছেন, প্যারোল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত যশোর জেলা প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত। বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের এ বিষয়ে করণীয় কিছু নেই।

    বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানান, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা ও একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। নিহত স্বর্ণালীর বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পাশাপাশি পুলিশ পক্ষ থেকেও একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, শুক্রবার বাগেরহাটে ৯ মাসের শিশু সন্তান নাজিফকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর মা কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

    সূত্রঃ কালেরকণ্ঠ

    কোন মন্তব্য নেই:

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

    Post Top Ad