খুলনার 'শীর্ষ সন্ত্রাসী' মিনা কামাল রামপালে বন্দুকযুদ্ধে নিহত - Bagerhat Times

Breaking

Breaking News

    Post Top Ad

    Post Top Ad

    বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০

    খুলনার 'শীর্ষ সন্ত্রাসী' মিনা কামাল রামপালে বন্দুকযুদ্ধে নিহত

    টাইমস ডেস্কঃ 
    গোলাগুলিতে নিহত
    খুলনার রূপসার নৈহাটি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামাল ওরফে ফাটা কেস্ট (৫৫) র‌্যাবের সঙ্গে ‘গোলাগুলিতে’ নিহত হয়েছেন। জেলা পুলিশের শীর্ষ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর তালিকায় তার নাম ছিল।

    বৃহস্পতিবার ভোরে বাগেরহাটের রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী ভেকুটিমারি স্থানে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

    রূপসার আলোচিত সারজিল ইসলাম সংগ্রাম (২৮) হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি মিনা কামালের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ২৫টি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে ৯টি খুনের মামলা

    মিনা কামাল রূপসা উপজেলার মিনহাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং যুবলীগের নেতা ছিলেন।

    র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৬ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রওশনুল ফিরোজ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামপালের ভেকুটিমারি এলাকায় ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে অভিযান চালায় র‌্যাব। এসময় মিনা কামালের লোকজন র‌্যাবকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষায় র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে মিনা কামাল গুলিবিদ্ধ হন এবং তার সঙ্গীরা পালিয়ে যান। এ ঘটনায় র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হন। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মিনা কামালকে উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে পিস্তল, গুলি, ছুরি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। মিনা কামালের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ২৫টি মামলা রয়েছে।

    এক নজরে মিনা কামাল এর সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্তঃ
    খুলনার রূপসা উপজেলার ভয়ংকর এক খুনি-সন্ত্রাসী মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামাল (৫২)। তাঁর ভয়ংকর কর্মকাণ্ড খুলনার এরশাদ শিকদারকেও হার মানিয়েছে। জেলা পুলিশের শীর্ষ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর তালিকায় রয়েছে তাঁর নাম। আবার দলীয় পদ-পদবি না থাকলেও নিজেকে যুবলীগ নেতা দাবি করেন মিনা কামাল। ২৫টির বেশি (৯টি খুন) মামলা, শতাধিক জিডি রয়েছে।নিজ বাড়িতে বিচারালয়ের নামে বসিয়েছেন টর্চার সেল। সেখানে বিচার-সালিসের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ে চালানো হয় অবর্ণনীয় শারীরিক-মানসিক নির্যাতন। বিচারের নামে হাতুড়িপেটা করে হাত-পা ও পাঁজরের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়। থেঁতলে দেওয়া হয় শরীরের স্পর্শকাতর স্থান। এসব অপকর্মে লিপ্ত তাঁর সহযোগী ২০ জনের সশস্ত্র বাহিনী। মিনা কামাল ও তাঁর বাহিনীর হাতে গত ১০ বছরে দুই শতাধিক মানুষ নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। খুন হয়েছেন ৯ জন। পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন ১০ জন। ভয়ে-আতঙ্কে সহায়-সম্বল রেখে পরিবার নিয়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছে কয়েক শ পরিবার। মিনা কামালের সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে জিম্মি ছিলো রূপসার ৫০ হাজার মানুষ। দখল, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক বাণিজ্য করে গড়ে তুলেছেন বিপুল অবৈধ সম্পদ।

    কোন মন্তব্য নেই:

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

    Post Top Ad