স্টাফ রিপোর্টার:
মোংলা-এ সরকারি তেল ডিপোতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের প্রমাণ পেয়েছে প্রশাসন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে যমুনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের তেল ডিপোতে অভিযান চালিয়ে মোট ১২ হাজার ৬১৩ লিটার অতিরিক্ত জ্বালানি তেল মজুতের প্রমাণ পাওয়া যায়। যার বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ ১০ হাজার ৮৫০ টাকা।
রোববার দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিনগত রাত ১টার দিকে বাগেরহাট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও এনএসআই যৌথভাবে মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে ডিপোর তিনটি তেলের ট্যাংকের জ্বালানি সরেজমিনে পরিমাপ করা হয় এবং নথিপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। এতে উল্লেখযোগ্য গরমিল ধরা পড়ে।
তদন্তে দেখা যায়—
- ১ নম্বর ট্যাংকে কাগজের তুলনায় ৯৩২ লিটার বেশি তেল পাওয়া গেছে
- ৯ নম্বর ট্যাংকে ১২ হাজার ৮১৮ লিটার বেশি তেল পাওয়া গেছে
- ১৪ নম্বর ট্যাংকে ১ হাজার ১৩৭ লিটার কম পাওয়া গেছে
সব মিলিয়ে মোট ১২ হাজার ৬১৩ লিটার তেলের হিসাব গরমিল পাওয়া যায়, যা স্বাভাবিক পরিমাপ ত্রুটির বাইরে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় ডিপোর ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. আল আমিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাকে ১০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তেলের পরিমাণ কম–বেশি দেখিয়ে ভবিষ্যতে আত্মসাতের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছিল।
এদিকে অবৈধভাবে মজুতকৃত তেলের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) অনুপ দাস জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এ প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা বিপিসি কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে।
অভিযানের পর আপাতত মোংলা ডিপো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন