ব্যস্ত সময় পার করলেও চুলকাঠির কামার পট্টিতে বেচাকেনা নেই - Bagerhat Times

Breaking

Breaking News

    Post Top Ad

    Post Top Ad

    শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২০

    ব্যস্ত সময় পার করলেও চুলকাঠির কামার পট্টিতে বেচাকেনা নেই


    চুলকাটি থেকে জাকারিয়া হোসাইন শাওনঃ
    সারা দিন টুংটাং শব্দে মুখরিত বাগেরহাট এর চুলকাঠি বাজারের কামার পট্টি । কেউ ভারী হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন দগদগে লাল লোহার শিখা, আবার কেউ শান দিচ্ছেন ছুরি কিংবা বঁটি, কেউবা আবার কয়লার আগুনে বাতাস দিচ্ছেন। এরই মধ্যে চলছে বিক্রির ও অর্ডারের কাজ। কামারদের এই কাজ মাত্র বছরে একবার প্রায় মানুষের কাজে লাগে। প্রতি বছর এই সময়টার জন্য অপেক্ষায় থাকেন কামার শিল্পীরা।

    কোরবানি ঈদের ২০-১৫ দিন আগ থেকেই বেচা-কেনার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে কামারেরা। চুলকাঠি ও তার আশেপাশের  কুরবানি দাতারা আসেন কামারদের কাছে। করোনার পরিস্থিতির কারণে আগের সেই আমেজ আর নেই তাদেরও। বিগত বছরের তুলনায় কাজ কমেছে দুই-তৃতীয়াংশ।

    সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, চুলকাঠির বিভিন্ন কামারের দোকানে অন্যান্য বছরের তুলনায় কাজ কম থাকলেও মোটামোটি সবাই কম বেশি কাজে ব্যস্ত আছে।

    কামার কুমারেশ কর্মকার  বলেন, অন্যান্য বছরে যে অর্ডার পেতাম তা একবারেই নেই। সারাদিনে ১০ থেকে ১৫ টা দা-বটিও বিক্রি হয় না।

    সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত বঁটি, দা, বিভিন্ন ধরনের ছুরি, কাবাব ছুরি, জবাই ছুরি তৈরি করেন তারা। এছাড়া শান দেওয়ার জন্য এক ধরনের লোহার স্টিকও বিক্রি করে। প্রকারভেদে বটির দাম তিনশ’ থেকে আটশ, গরু জবাইয়ের ছুরি ২শ’ থেকে পাচশ’ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া অন্যান্য ছুরি দুইশ’ থেকে পাঁচশ’ টাকায় বিক্রি করা হয়।

    রাখালগাছী এলাকার এক কামারের দোকানে আসা ক্রেতা বলেন, অন্যান্য বছর আমাদের ঘরের যে ছুরি, দা, বটি, জবাই ছুরিসহ সব মিলিয়ে আমার আসতো ১৫শ’ টাকা। এ বছর করোনার প্রভাবে আমি তা দিলাম মাত্র ৮৫০টাকায়, তাও আমার কোন দর-দাম ছাড়াই।

    কামার সাধন কর্মকার  বলেন, কাজ-রুজি নাই বললেই চলে। বাপ-দাদার পেশা হিসেবে লোহা পেটানোর কাজ করে আসছি। বৃদ্ধ বয়সেও কাজ করে যাচ্ছি। তবে আমার সন্তানদের কেউ এ পেশায় আসেনি এবং তাদের আসতেও বলিনি।

    কোন মন্তব্য নেই:

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

    Post Top Ad