
নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনার দিঘলিয়ায় পূর্ব বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবদলের এক নেতা নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার বিকালে উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বকশিবাড়ি কবরস্থানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা) আবির সিদ্দিকী শুভ্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আবির সিদ্দিকী শুভ্র জানান, তুচ্ছ ঘটনায় বাগবিতণ্ডার জের ধরে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দিঘলিয়া থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদসহ ৪/৫ জন মুরাদের গতিরোধ করে এবং তার ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার জন্য মুরাদ বক্সিবাড়ি মসজিদ সংলগ্ন একটি দোকানে আশ্রয় নেয়। দুর্বৃত্তরা ওই দোকানের তালা ভেঙে দোকানের ভেতরই পুনরায় হামলা করে। এসময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুরাদের দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত খান মুরাদ (৪৫) সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং হাজী গ্রামের বাসিন্দা মুনসুর খানের ছেলে।
নিহতের বোনের স্বামী মো. মিঠু জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মুরাদের সঙ্গে সাজ্জাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে মুরাদ বকশিবাড়ির দিকে যাওয়ার সময় সাজ্জাদ ও তার ভাই সজিবসহ কয়েকজন মুরাদকে ঘিরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।
পুলিশ জানায়, দিঘলিয়া থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদের সঙ্গে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ।
খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় মুরাদ নিহত হয়েছেন। ঘটনায় জড়িতরা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে|
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মুরাদকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। মুরাদের দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্করজনক। রগ কেটে তাকে আটকে রাখায় শরীর থেকে সমস্ত রক্ত বের হয়ে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এটা অমানবিক। আমরা অমানবিক এবং এই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই।
তিনি বলেন, হত্যাকারী যেই হোক, তার রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, আমরা প্রশাসনের কাছে জানাব, অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। এখানে হত্যাকারীর রাজনৈতিক পরিচয় দেখার প্রয়োজন নেই এবং কার সঙ্গে কি সম্পর্ক রয়েছে এটাও বিবেচ্য বিষয় নয়। আমাদের একজন রাজনৈতিক কর্মী শুধু নয়, একজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীরা যেন গ্রেপ্তার হয়।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন